ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজ একটি বিশ্বব্যাপী শিক্ষা আন্দোলন। এই কলেজের মিশন হলো বিভন্ন জাতি এবং সংস্কৃতির মানুষকে একত্রিত করে টেকসই ভবিষ্যতে বিনির্মাণ করা।

শান্তি এবং টেকসই ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা।

এই স্লোগান নিয়ে ১৯৬২ সালে জার্মান শিক্ষাবিদ Kurt Hahn এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করে। একজন শিক্ষার্থী দুই বছর এ স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়। এই কলেজে পড়ানো হয় আন্তর্জাতিক কূটনীতিসহ সময়োপযোগী বিভিন্ন বিষয়।

ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজ  সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ঘুরে আসুন ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজ পরিচিতি আর্টিকেল থেকে।

 

ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজে কাদের ভর্তির সুযোগ আছে?

ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজ দুই বছরের International Baccalaureate (IB) ডিপ্লোমা প্রদনা করে। এটি হাই-স্কুল লেভেল ডিপ্লোমা, যা এইচএসসি (HSC)/ এ-লেভেল (A-Level) সমতুল্য।  তোমরা যারা এখন এসএসসি (SSC)/ ও লেভেল (O-LEVEL) পড়ছো এবং এইচএসসি (HSC)/ এ-লেভেল (A-LEVEL) শেষ করার পর সনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য যেতে চাও তারা এইচএসসি (HSC)/ এ-লেভেল (A-LEVEL) এর পরিবর্তে IB ডিপ্লোমা প্রোগ্রামটি  করার জন্য ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজে ভর্তি হতে পারো।

ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজে কিভাবে আবেদন করবো?

ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজে ভর্তি হতে নিজ দেশের কমিটির মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজের কমিটি রয়েছে এবং বাংলাদেশেও ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজের কমিটি রয়েছে। এই কলেজে কোন ভর্তি পরীক্ষা হয় না। আবেদন করার জন্য সর্বশেষ তিন পরীক্ষার রেজাল্ট জমা দিতে হয়। যেমন

এসএসসি (SSC) পাশ করা একজন স্টুডেন্টে তার এসএসসি (SSC) পরীক্ষার রেজাল্টের পাশাপাশি টেস্ট ও প্রি-টেস্ট পরীক্ষার  রেজাল্ট জমা দিতে হবে।

এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিকেও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়। ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজে ভর্তির আবেদনের অপরিহার্য অংশ হলো রেকমেন্ডেশন লেটার বা সুপারিশপত্র। সাধারণত ২ টি রিকমেন্ডেশন লেটার দরকার হয়।

রিকমেন্ডেশন লেটার হল এমন একটি রচনা যেখানে শিক্ষার্থী সম্পর্কে ভাল কথা লিখা থাকে। মূলত একজন শিক্ষার্থীর যোগ্যতা, একাডেমিক কর্মক্ষমতা, মেধা প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

একটি রিকমেন্ডেশন লেটার তোমার সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ইস্যু করবে। তিনি হতে পারে তোমার তিনি সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষক বা সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  হেড।

আর, একটি রিকমেন্ডেশন লেটার তোমার সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরের কেউ ইস্যু করবে। তবে, অবশ্যই তোমাকে ভালো মতো চিনেন এই রকম কেউ হতে হবে।

এই সব কিছুর বাইরে তোমার ‘পারসোনাল Essay’ লিখতে হবে।  ‘পারসোনাল Essay’ হলো, তোমার সম্পর্কে তোমার নিজের  মতামত। কিন্তু নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা ও যোগ্যতর প্রমাণ করার ক্ষেত্র হল এই ‘পারসোনাল Essay’।  যে প্রতিষ্ঠানে তুমি পড়তে যেতে চাইছ, সেখানকার শিক্ষকরা তোমার সম্পর্কে, তোমার নিজের বক্তব্য জানবেন ‘পারসোনাল এসে’ থেকে। তোমার কতটা বস্তুনিষ্ঠ চিন্তা করার ক্ষমতা আছে, তাদের কাছে তা জানার মাধ্যম কিন্তু এটাই। সত্য মিথ্যা যাচাই-এর আগে, তোমার দৃষ্টিভঙ্গিটা বোঝা তাদের কাছে জরুরি।

এই সকল কিছুর বাইরে একটি লং ইন্টারভিউ হয় । এই ইন্টারভিউতে সাধারণত একজন স্টুডেন্টকে তার পড়াশোনা, এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিক এবং বাংলাদেশ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।

ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজে আবেদন করতে প্রয়োজনিও সকল তথ্য এবং অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম  ডাউনলোড করতে হবে বাংলাদেশেও ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজ কমিটির ওয়েবসাইট থেকে।

ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজে  স্কলারশিপের সুযোগ আছে কি ?

ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজের সবচেয়ে ভালো বিষয়টি হলো এই কলেজে  স্কলারশিপের সুযোগ আছে। এখানে ১০০% স্কলারশিপের পাশাপাশি ৭৫%, এবং ৫০%  স্কলারশিপ অফার করা হয়।  ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজ কমিটিরও অনেক সময় আর্থিক সহায়তা প্রদনা করে। যেমনঃ

সিঙ্গাপুরের বিদেশি গৃহকর্মীদের ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজে  ২০০৬ সালে শতভাগ স্কলারশিপ প্রদান করেছিল। স্কলারশিপের সকল তথ্য পাওয়া যাবে বাংলাদেশেও ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজ কমিটির ওয়েবসাইট থেকে।

স্কলারশিপের বাইরেও স্টুডেন্টদের ছোট ছোট কাজ করার সুযোগ দিয়ে থাকে ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজ কমিটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *