স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়তে যাওয়ার  স্বপ্ন প্রায় সবারই! অনেকের জন্যই স্কলারশিপ পাওয়ার বিষয়টি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।  তবে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সবার প্রথম শর্ত হলো হাল ছাড়া যাবে না।
হরেক  রকমের স্কলারশিপের  ভিড়ে কোনটি তোমার জন্য ? 
নিজের জন্য সঠিক স্কলারশিপ খুঁজে পেতে তোমাকে সর্বপ্রথম জানতে হবে কি কি কারনে, কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। তারপর, নিজের পছন্দ অনুসারে একটি তালিক তৈরি করে আবেদন করতে হবে। 
“know thyself”
দার্শনিক সক্রেটিসের বলছেন “নিজেকে জানুন”। নিজের ভালো-মন্দ দিক সমূহ  এবং দক্ষতা ও যোগ্যতার সম্পর্কে নিজকে জানতে হবে। সেই হিসাবে নিজকে তৈরিও করতে হবে। আসো জেনে স্কলারশিপের নানা ধরন, যা তোমার স্কলারশিপ অর্জনের জন্য সহায়ক হবে!

অ্যাকাডেমিক সাকসেস:

পড়াশোনার মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করাই প্রথম কাজ। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাকাডেমিক মেরিটের উপর নির্ভর করে স্কলারশিপ অফার করে থাকে।  আন্ডার গ্রাজুয়েট লেভেলে ভর্তির আগে যেহেতু আমাদের দেশের স্টুডেন্টরা রিসার্চ করা সুযোগ হয় না। তাই, অ্যাকাডেমিক সাকসেস স্কলারশিপ অর্জনের প্রধান শর্ত।

  Harverd UniversityMassachusetts Institute of Technology,  Princeton University, এর মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মেরিট এর উপর নির্ভর করে আন্ডার গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ অফার করে থাকে।

Scholly, Fastweb ইত্যাদি টুল ব্যবহার করে এই ধরণের স্কলারশিপ খুঁজে পেতে পারো।

সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ:

মেরিট কিন্তু শুধু লেখাপড়াতে ভালো হলেই বিবেচিত হয় তা নয়। আমেরিকায় সেবামূলক কাজ হতে পারে মেরিট বেইজড এইড পাওয়া একটি শর্ত। তোমরা যারা সেবামূলক কাজের সাথে যুক্ত তাদের জন্য অনেক স্কলারশিপের সুযোগ আছে।

কমনওয়েলথ শেয়ারড স্কলারশিপ স্কিম, প্রডেনসিয়াল স্পিরিট কমিউনিটি অ্যাওয়ার্ড, এএক্সএ অ্যাচিভমেন্ট লারশিপ, সিএটিএস আণ্ডারগ্র্যাজুয়েট আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট স্কলারশিপ এই ধরণের  কিছু স্কলারশিপ প্রোগ্রাম।

স্টুডেন্টের নীড:

টাকা দিয়ে যাদের পক্ষে উচ্চ শিক্ষা অর্জন সম্ভব নয় তাদের জন্য নীড বেইজড স্কলারশিপের সুযোগ আছে। এমনই একটি স্কলারশিপ হচ্ছে “পুটার স্কলারশিপ” প্রোগ্রাম। নীড বেইজড মানে তোমার মেধার অবস্থা যাই হোক না কেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তোমরা নীড’কে গুরুত্ব দিয়ে “ফাইন্যানসিয়াল এইড” দিয়ে সহায়তা করবে।

এসএটি (SAT) স্কোর:

আমাদের দেশে অনেকে স্টুডেন্টের স্বপ্ন স্কলারশিপ নিয়ে  বিদেশে পড়তে যাওয়ার। আর, আন্ডারগ্র্যাডে লেভেলে স্কলারশিপ  প্রধানত নির্ভর করে এসএটি (SAT) স্কোর উপর।

নর্থ আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “ফাইন্যানসিয়াল এইড”  পেতে স্কোরের ধারনা বিভিন্ন। এছাড়াও এটি সাবজেক্টের উপরও নির্ভর করে থাকে।

এই সব বিষয় বিশ্ববিদ্যালয় মেরিটের উপর নির্ভর করে সর্ব নিম্ন ৭,০০০ ডলার থেকে শুরু করে ২২,০০০ ডলার  “ফাইন্যানসিয়াল এইড” দিয়ে থাকে।

সাধারণত এসএটি (SAT) পরীক্ষায় ১৬০০ এর মধ্যে ১৪৯০ এর উপরে স্কোর করলে “ফাইন্যানসিয়াল এইড” পাওয়া যেতে পারে। যদিও এর নিচে স্কোর করলেও প্রোফাইলের অন্যান্য স্কিলের সাহায্য নিয়েও এই “ফাইন্যানসিয়াল এইড” ম্যানেজ করা যায়।

আন্ডারগ্র্যাডে লেভেলে স্কলারশিপ নির্ভর করে এসএটি (SAT) স্কোর উপর। এসএটি (SAT) স্কোর নির্ভর স্কলারশিপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ঘুরে আসুন  এসএটি (SAT) স্কোর বনাম স্কলারশিপ আর্টিকেল থেকে।

ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা:

দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষার জন্য সিজিপিএ (CGPA) এর চেয়েও বেশি মূল্যবান ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা । কেবল ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা প্রমাণ করেও অনেক দেশে স্কলারশিপ অর্জন করা সম্ভব।

বর্তমান সময়ে টোফেল এবং আইইএলটিএস যেন একজন  স্টুডেন্টের দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষা এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার মানদন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুতরাং যারা দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহী তাদের কেবল সিজিপিএ (CGPA) এর দিকে নজর রাখলে হবে না, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দিতে হবে।

বর্তমানে সময়ে প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি স্কোর নির্ধারণ করে দেয়। তাই তোমরা যারা আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলে ভর্তি হতে চাও তারা কেবল  সিজিপিএ (CGPA) নিয়ে না ভেবে নিজের ইংরেজিতে দক্ষতটার দিকেও নজর দাও।

তোমরা এই সব  শর্ত সমূহ পূরণ করে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়তে যাওয়ার  স্বপ্নকে সত্যি করতে পারো। যা তোমরা জন্য খুলে দিবে অপার সম্ভাবনার দূয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *